গোরস্থানে ঘর-সংসার হাজার হাজার মানুষের

গোরস্থান মৃত মানুষের চিরন্তন শান্তি ও বিশ্রামের জায়গা। কিন্তু কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের একটি গোরস্থান কয়েক হাজার জীবিত মানুষের আশ্রয়ের একমাত্র স্থান হয়ে উঠেছে।

শহর উন্নয়নের নামে ধ্বংস করা হচ্ছে গরিবদের মাথা গোজার ঠাঁই। সব হারিয়ে তাই গোরস্থানে থাকতে বাধ্য হচ্ছে অনেকেই।

একসময় ভিটেমাটি সবই ছিল মা নিথের। কিন্তু একদিন যে গোরস্থানে থাকতে হবে, তা স্বপ্নেও কল্পনা করেননি তিনি।

চার সন্তানের মা মা নিথ এখন রাজধানীর মোর স্যান গোরস্থানে থাকেন। দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এশিয়া ওয়ানকে তিনি বলেন, এটা চিন্তারও বাইরে ছিল যে একদিন এখানে থাকতে হবে। কিন্তু এখন সব মানিয়ে গেছে।

নদীর ধার বা শহরের মধ্যে যাদের ঘরবাড়ি সরকারি উন্নয়নের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, তাদের অনেকের জন্য সবচেয়ে ভালো পছন্দ গোরস্থান।

কারণ কম্বোডিয়ার জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হলেও গোরস্থানগুলো ভিয়েতনামিদের। ভিয়েতনামিদের বিশ্বাস মতে, পরিবারের কেউ মারা গেলে তাকে যে গোরস্থানে কবর দেয়া হয়, ওই পরিবারের কোনো সদস্যকে নিয়মিত ওই কবরের দেখভাল করতে হয়।

তাই দরিদ্রদের অনেকই গোরস্থানে বসবাস করেন। একদিকে তারা যেমন রীতি পালন করেন, তেমনই উন্নয়নের নামে তাদের বস্তি ভেঙে ফেলার কারণে ঠাঁই নিয়েছেন গোরস্থানে।

গোরস্থান অবশ্য উন্নতমানের। সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ থাকে। বাজারও গোরস্থানের পাশেই। মিমলা, মোর সান ও শিপ্টা- এই তিন গোরস্থানে বাস করেন হাজারসংখ্যক মানুষ। এ তিনটি গোরস্থানই নমপেনে অবস্থিত।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে কম্বোডিয়ার প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু এই পরিমাণ প্রবৃদ্ধি থাকলেও নমপেনের যত্রতত্র বস্তি দেখা যায়। দেশটির ১৪ শতাংশ বাসিন্দাই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছেন।

দেশটির কথিত উন্নয়নের ফলে যাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে, বিশেষ করে তারাই আশ্রয় নিয়েছেন গোরস্থানে।

এমনই একটি পরিবার মা নিথ। নমপেনের বাসিন্দা মা নিথ বিশ্বাস করতে পারছেন না রাজধানীর মোর সান গোরস্থানে তাকে বসবাস করতে হচ্ছে। অথচ একসময় বেশ ধুমধাম করে তার বিয়ে হয়েছিল।

Loading...