পরিবেশ বাঁচাতে ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের নয়া দর্শন: একদিন পর পর মলত্যাগ করুন

তিনি প্রেসিডেন্ট পদে আসার পর থেকেই ব্রাজিলে বেড়েছে অরণ্য ধ্বংসের মাত্রা। ইতিমধ্যেই তা নিয়ে সোচ্চার হয়েছে দেশটির বেশকিছু এনজিও। তাতে অবশ্য কোনো হেলদোল নেই প্রেসিডেন্ট জেয়ার বলসোনারোর।

বরং পরিবেশ রক্ষায় এক নয়া দর্শন খাঁড়া করলেন তিনি। বললেন, গোটা পৃথিবীর লোক যদি কম খায়, আর একদিন পর পর মলত্যাগ করে, তাহলেই পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না। এনডিটিভি।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বলসোনারো। তাকে এক সাংবাদিক গত এক বছরে আমাজনে যে পরিমাণে গাছকাটা হয়েছে তার কুফল নিয়ে প্রশ্ন করলে রেগে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একটু কম খেলেই সব ঠিক হয়। আপনি পরিবেশ রক্ষার কথা বলছেন। যদি একদিন অন্তর মলত্যাগ করা হয়, তাহলেই পরিবেশ রক্ষা পাবে। এটা গোটা পৃথিবীর জন্যই ভালো হবে।’

বলসোনারোর এই যুক্তির পরেই শুরু হয়েছে সমালোচনা। পরিবেশ রক্ষায় গাছকাটা থামানোর কথা না বলে এ ধরনের আজব যুক্তি খাঁড়া করায় হাসির খোরাক হচ্ছেন তিনি। এমনিতেই এক বছরের শাসনকালে তার বিরুদ্ধে আমাজন রেনফরেস্টে গাছকাটার পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে অনেক অভিযোগ এসেছে।

ব্রাজিলের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (আইএনপিই) জানিয়েছে, গত এক বছরে দুই হাজার ২৫৪ বর্গকিলোমিটার অরণ্য ধ্বংস হয়েছে। এ পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ২৭৮ শতাংশ বেশি। আইএনপিই-র এই হিসাবকে মিথ্যে বলে দাবি করেছেন বলসোনারো। এমনকি এই সংস্থার প্রধান রিকার্ডো গ্যালাভোকে তিনি বরখাস্ত পর্যন্ত করেছেন।

তার এ কাজকে সমর্থন করেছেন পরিবেশমন্ত্রী রিকার্ডো সালেস। তিনি বলেছেন, বিদেশি এনজিও-র কাছ থেকে বেশি ডোনেশন পাওয়ার জন্যই এ মিথ্যে তথ্য দিয়েছে আইএনপিই। আমাজনে এ ডিফরেস্টেশনের প্রভাব পড়ছে গোটা বিশ্বে।

কারণ, আমাজনই গোটা পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে। এছাড়াও এই রেন ফরেস্ট পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য এই প্রথম নয়, এর আগেও অনেক বিতর্কিত কথা বলেছেন বলসোনারো।

ব্রাজিলের জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেখে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় এ ভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি আটকাতে পরিকল্পনা করা উচিত। সব শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিদেরই কম সন্তান থাকে। আমি অবশ্য ব্যতিক্রম। আমার পাঁচ সন্তান আছে।’

বলসোনারোর এ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করছে ব্রাজিলের বিভিন্ন পরিবেশমূলক সংস্থা।

গ্রিনপিসের প্রেসিডেন্ট মার্সিও আস্ত্রেনির বক্তব্য, ‘বলসোনারো জানেন, আমাজনে এ অরণ্য ধ্বংসের জন্য তার সরকারই দায়ী। আইএনপিই’র অধিকর্তাকে সরিয়ে দিয়ে সেই সত্যিকে আরও বেশি করে সবার সামনে তুলে ধরেছেন তিনি।’

Loading...